একটা নতুন জুজু খোঁজো…

এক সময় মরহুম এনায়েতুল্লাহ খান ভালোই চালিয়েছেন তার হলিডে পত্রিকা দিয়ে। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে বাকস্বাধীনতার গুরুত্ব দিতে কসুর করেননি প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।আর সে সুযোগটার অপব্যবহার করতে যারা দুবার ভাবেননি তাদের একজন এনায়েতুল্লাহ খান। হলিডে সম্পাদক নামে-বেনামে প্রচুর বানোয়াট আর্টিকেল লিখেছেন দেশের সামগ্রিক অবস্থা নিয়ে।
মার্কিন দূতাবাসের সৌজন্যে সেগুলোই বিদেশে প্রচারিত হয়েছে বাংলাদেশের সত্যিকার চিত্র হিসেবে। চৈনিক বামদের প্রপোগান্ডার এই আদর্শ মুখপত্রে ছদ্মনামে আরো লিখতেন সিরাজ শিকদার, পিটার কাস্টার্স, সিরাজুল আলম খানরাও। মূল কথা একটাই দেশটা রসাতলে যাচ্ছে, বিপ্লব দরকার। কখনও সেনাবাহিনী, কখনও জনগণ এবং তাদের সহযোগিতায় বিদেশী শক্তিকে এগিয়ে আসতে উস্কানি দেওয়া হতো সেসব লেখায়।
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এনায়েতুল্লাহর প্রেতাত্মা ভর করেছে মাহমুদুর রহমানের উপর। প্রাক নির্বাচনী উত্তরা ষড়যন্ত্রের নায়ক এই সাবেক সচিব এখন সম্পাদক। আর তার পত্রিকা দিয়ে হলুদ সাংবাদিকতার অবিশ্বাস্য এক প্রদর্শনী তিনি চালিয়ে যাচ্ছেন দিনের পর দিন।এবং মাহমুদুর রহমান একা নন। একটা বিশাল সিন্ডিকেট মাঠে নেমে পড়েছে সরকারবিরোধী গুজব বানাতে। ফেসবুক, ব্লগ সবখানেই দেখা গেছে একটা নির্দিষ্ট প্যাটার্নে সংবাদ পরিবেশন।আর সব সংবাদের মূলে হচ্ছে ভারত আমাদের দেশটাকে গিলে ফেলেছে, তাদের বিরুদ্ধে জিহাদে নামা সময়ের দাবি। তার আগে নির্মূল করতে হবে এই দেশে তাদের দালালদের। এবং অবশ্যম্ভাবীভাবে সেই দালালরা হচ্ছে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি যার অন্যতম বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার।
আস্থার সংবাদ হলো এসব আজগুবি গল্পে বিশ্বাস করার মানুষ দিনে দিনে অনেক কমে আসছে। বিপরীতে শংকার খবর হলো এরা এখন বিদেশী পত্রিকায় ভর করেছেন তাদের অপপ্রচার চালাতে।নিজেরাই খুলে বসা নিউজ ব্লগ তো আছেই (উদাহরণ শ্রীলঙ্কা অবজারভার, টাইমস অব আসাম, ইন্ডিয়ান টাইমস), পাশাপাশি রয়েছে অন্য মাধ্যমও। আর এক্ষেত্রে তাদের এক বড় সহায় হয়ে এসেছে দ্য ইকোনমিস্ট নামের পত্রিকাটি।এর আগে গত নির্বাচনে ভারতের বস্তাভর্তি টাকা ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে বলে লেখা সুপারিশের প্রতিবেদনটি বেশ ভালো বাজারজাত করেছিলো বিএনপি-জামাত জোট। আজ দেখলাম আরো ভয়ঙ্কর আহবান। অনেকটা সিরাজুর রহমান (বিএনপির বিবিসি বুদ্ধিজীবি) ফ্লেভারের লেখাটির (কারো নাম ব্যবহার করা হয়নি) মূল বয়ান সেই ৭৫এর হলিডের নতুন সংস্করণ- বাংলাদেশ রসাতলে যাচ্ছে। শেখ হাসিনা এর সর্বনাশ করে দিচ্ছেন। ভারতের উচিত তাকে শাসন করা!
বেনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাংলাদেশের ১৭ কোটি দরিদ্র মুসলিমের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অভিযোগ আনা হয়েছে। যদিও ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোরের ঘণ্টাখানেক বাদ দিলে বাংলাদেশ কখনও নিজেকে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র বলে স্বীকার করেনি। কিন্তু বহির্বিশ্বের কাছে এই পরিচয়টায় তুলে ধরেছেন লেখক। মুসলমানদের উপর অত্যাচার করছে ধর্মনিরপেক্ষতার নামে ইসলামকে ধংসের পরিকল্পনায় নামা আওয়ামী লীগ সরকার!সৌদি আরবসহ মুসলিম দেশগুলোতে এই প্রচারণা অবশ্য স্বাধীনতার পর থেকেই করে আসছিলো সেখানে নিশ্চিন্তে আশ্রয় নেওয়া স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি।
ফিরে আসি আলোচ্য প্রতিবেদনে। দুঃশাসনের অন্যতম উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে গুমের কথা। এবং বিরোধী দলের ৩৩ জন শীর্ষ নেতার গ্রেফতারের কথা। কিন্তু যে প্রেক্ষাপটে তাদের গ্রেফতার তা স্রেফ লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগের অভিযোগে পূর্ণতা পায় না। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে গঠিত ট্রাইবুনালকে বলা হচ্ছে বিএনপি এবং তার সহযোগী ইসলামী দলগুলোকে হেনস্থা করার প্রয়াস!ঠিক যে লাইনে গোলাম আযম কথা বলে ঠিক সেই লাইনে লেখা হয়েছে কথাগুলো। সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে মোহাম্মদ ইউনসুকেও। এটা সত্যি যে ইউনুসের সঙ্গে বর্তমান সরকারের সম্পর্কটা টানাপোড়েনের। আর এর নেপথ্যে তার নোবেলজয়ের প্রতি ঈর্ষার চেয়ে বরং গত সামরিক শাসনে তার রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ এবং সেইলক্ষ্যে দুই শীর্ষনেত্রীকে দেশছাড়া করার উদ্যোগটির প্রতি ক্ষোভই বরং বেশী।
তো হিলারী ক্লিনটন উড়ে এসেও নাকি হাসিনাকে বশ করতে পারেননি। এই লাগামটা এখন টানতে হবে ভারতকে। কারণ হাসিনাতো ভারতের প্রতিনিধি! নেপথ্য বার্তা কিন্তু এটাই এবং অত্যন্ত পরিষ্কার ও বিপজ্জনক বার্তা। আওয়ামী লীগ ভারতের দালাল, তাদের সরকার ভারতের পুতুল সরকার। তাদের শাসনামলে বাংলাদেশ ভারতেরই উপনিবেশ। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির চিরন্তন ফতোয়া এটি, বঙ্গবন্ধু হত্যার পর তার খুনীদের এবং দীর্ঘ সামরিক শাসনে জপ ছিলো এটি স্বৈরাচারদের তরফে। বাস্তবে আমরা দেখেছি ভারত আমাদের মুক্তিযুদ্ধে বড় সহায়ক হয়েও এদেশ থেকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করে নিয়েছে স্বাধীনতার তিনমাসের মাথায়। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর তাদের আক্রমণের জুজু দেখানো হয়েছে জনগণকে,কয়েক কোটি টাকার ঋনে আনা হয়েছে চীন,আরব ও মার্কিন সামরিক সাহায্য ও সহায়তার প্রতিশ্রুতি। সেই ঋণ এখনও শোধ করে যাচ্ছি আমরা। ভারত আমাদের আক্রমণ করেনি। কিন্তু ভারতকে দেখিয়েই যুদ্ধাপরাধীরা তাদের একাত্তরের যাবতীয় মানবতাবিরোধী অপরাধকে জায়েজ করার চেষ্টা করে। জিয়া-এরশাদের সরকার তাদের অবৈধ এবং রক্তাক্ত ক্ষমতা দখলকে জায়েজ করেছে। বিএনপি এবং জামাত জোট পাকিস্তানের সঙ্গে সৌহার্দপূ্ণ সম্পর্ক জায়েজ করার অজুহাত দিয়েছে। সেই ভারত জুজুতে।
বাস্তবতা কিরকম! ভুগোল বলে আমাদের তিনদিকে ভারত, আর খোলা দিকটা বঙ্গোপসাগর। সীমান্তগুলোরে একেকদিকে একেক রাজ্য। সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের রাজনীতি অনেকখানিই প্রভাবিত করে পরস্পরের সম্পর্ক। জাতীয় রাজনীতিতে সব সমীকরণ বদলে যায় অবশ্য। কথা হচ্ছে সামগ্রিক বিচারে প্রতিবেশী হিসেবে ভারত আমাদের প্রতি কতখানি সহৃদয়, কতখানি সুহৃদ? মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের সবচেয়ে বড় সহায় ছিলো তারা। এককোটির ওপর শরণার্থীদের তারা আশ্রয় দিয়েছে, খাইয়েছে, মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিং আর অস্ত্রের যোগান দিয়েছে। এবং যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে কাধে কাধ মিলিয়ে লড়ে দেশটাকে স্বাধীন করায় সাহায্য করেছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের বিনির্মাণেও তাদের সহায়তা ছিলো। আমাদের প্রথম স্বীকৃতিটাও তারাই দিয়েছে। এর বিনিময়ে কৃতজ্ঞতার বেশী আর কিছু দেওয়ার উপায় ছিলো না আমাদের। স্বাধীনতার পর তারা পাকিস্তানী যুদ্ধবন্দীদের পাশাপাশি তাদের অস্ত্রগুলোও নিয়ে গেছে যুদ্ধে পেশীসহায়তার বিনিময় হিসেবে।
কিন্তু মনে রাখতে হবে রাষ্ট্রের নাগরিকরা মানবিক হলেও রাষ্ট্র যান্ত্রিক, তার রাষ্ট্রনীতি যান্ত্রিক। বঙ্গবন্ধু তাই দেশে ফেরার পরপরই ভারতীয় সৈন্যদের প্রত্যাহারে বাধ্য করলেন ইন্দিরা গান্ধীকে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সুবিধার্থে ২৫ বছরের একটা মৈত্রি চুক্তি করেছিলেন, কিন্তু তার কোথাও দেশের স্বার্থ বিক্রি করেননি মুজিব। ভারতীয় উপদেষ্টা দিয়ে প্রশাসন চালানোর সুপারিশের বিপরীতে বরং পাকিস্তানে আটকে পড়া এবং দালাল আইনে জেলবন্দী বাঙালীদের দিয়েই দেশ চালানোর ঝুকি নিয়েছেন। মুজিব আমলে সাগরসীমা নিয়ে দু-দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি ঘটেছিলো ৭৪ এবং ৭৫এ। তাছাড়া মুজিবের সব দেশের সঙ্গেই বন্ধুত্ব কিন্তু কোনো শর্তসাপেক্ষে নয় নীতিটাও পছন্দ করেনি ভারত। আমেরিকা এবং মুসলিম জোটভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে তার কূটনৈতিক তৎপরতায় ক্ষুব্ধই হয় কংগ্রেস। মোটামুটি তখন থেকেই বাংলাদেশ তাদের চোখে বিশ্বাসঘাতক এক বন্ধুর নাম। পাকিস্তানীদের মতো তারাও আমাদের গাদ্দারই জানে।
‘৭৫এর ১৫ আগস্টের পর ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক নতুন করে খারাপ হয়নি। তবে মোশতাক ও জিয়া সরকারের অতিরিক্ত পাকিস্তান এবং চীন ঘেষা মনোভাব তারা ভালোভাবে নেয়নি। কিন্তু তাতেও আমাদের অস্তিত্ব বিপন্ন হয় এমন কোনো পদক্ষেপ আসেনি ভারতীয় তরফে। এ সময়টা থেকেই ভারত জুজুর শুরু। ভারত আমাদের দখল করে নিবে এই অজুহাতে চীনা সমরাস্ত্র, পাকিস্তানের সঙ্গে জোটবাধার মতলব এবং যুক্তরাষ্ট্রের রণতরীর নিয়মিত বঙোপসাগরের উপর দিয়ে যাতায়ত নিয়ম হয়ে যায়। গণমাধ্যমগুলোতেও ভারতবিরোধী প্রচারণায় জিইয়ে রাখে সীমান্তে বিএসএফএর অত্যাচার, মুসলিম নির্যাতন ইত্যাদি ঘটনার সম্প্রচারে। মানুষকে মনে করিয়ে দেওয়া হয় যাদের আমরা ভারত বলি, তাদের নাম আসলে হিন্দুস্তান। তাই আমাদের মুসলমান পরিচয়টা সাংবিধানিক রূপ দেওয়া হয় বিসমিল্লাহ যোগ করে। কিন্তু, তারপরও আমাদের ভারত আক্রমণ করে না। অথচ পাকিস্তান-চীন-আমেরিকা-আরবরা সমরাস্ত্রবাবদ, এই নিরাপত্তা, ওই নিরাপত্তা বাবদ ঋণ দিয়ে আমাদের ঋণী করে যায়। আমাদের সারাক্ষণই আশ্বাস দেয় আসুক না একবার, এটম বোমা মেরে দেবো!
কিন্তু কতদিন এভাবে চলবে? ভারতকে সাধু বলার কোনো উপায় নেই। তাদের বিএসএফ চোরাকারবারি বলে আমাদের নিরীহ রাখালদের ওপরও নিশানা প্র্যাকটিস করে নিয়মিত। সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চলছে লাগাতার। বানিজ্যেও রয়েছে পরোক্ষ বিনিয়োগ যার মুনাফার অনেকখানি তুলে নেয় তারা। অল্প কজন কমিশনভোগী বছরের পর বছর সরকারের পর সরকার মোটা টাকায় আমাদের টিকি বন্ধক রেখে দিচ্ছে তাদের কাছে। পরিত্রানের উপায় কি? আমরা কি ইসলামী দলগুলোর ভারত জুজুর ভয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে কনফেডারেশনে যাবো? এতে কি নিরাপদ আমরা? নাকি গণতন্ত্রমনা সুশীল বুদ্ধিজীবিদের মেনে আমেরিকাকে বলবো ডিয়েগো গার্সিয়া ছেড়ে তোমরা সেন্টমার্টিনটাই নিয়ে নাও। নাকি বামদের সুপারিশ অনুযায়ী আরো বড় পরাশক্তি চীনকে বলবো উত্তরবঙ্গটা তোমাদের ঠিকাদারি দিলাম, বার্মা দিয়ে পার্বত্যচট্টগ্রাম আর সাগরটাও তোমাদের থাক। কমিশনটা ঠিক মতো দিও।
এর কোনোটাই না। যতবড় দাদাই আমাদের সহায় হয়ে আসুক, ভারত আক্রমণ করলে আমাদের বাংলাদেশের অবস্থা ফার্দাফাই হয়ে যাবে এটাই বাস্তব। দুয়েক কোটি ক্যাজুয়ালটি কোনো ব্যাপারই না। তাহলে কি আমাদের সবাইকে আর্মিতে ভর্তি হতে হবে? সামরিক বরাদ্দ তিনগুন করে দিতে হবে? উহু, এটাও কোনো সমাধান না। প্রতিবেশী হিসেবে ভারতকে ঢিঢ করার একমাত্র উপায় বাংলাদেশের দায়িত্বটা আমাদের নিজেদের নেওয়া। বাঙালীদের হাতে থাকবে এর দায়িত্ব। আরবি, চাইনিজ, ইংলিশ প্রেসক্রিপশন বাদ। এরশাদীয় নতুন বাংলাদেশ গড়বো মোরা গান গেয়ে দেশের আরো সর্বনাশ করার পথে আমরা না হাটি। স্রেফ শপথ নিই যাই করবো দেশের জন্য করবো, দেশের উন্নয়নের জন্য করবো। বাঙালীর জন্য করবো, বাঙালী হিসেবে করবো। আমাদের স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার সেটআপ কিন্তু আছে। সব সেক্টরেই আমাদের মেধাবীরা আছেন। প্রয়োজন এদের সবাইকে কাজে লাগানো। বিদেশী পন্য, বিদেশী সাহায্য নির্ভরতা কমিয়ে কিংবা এককালীন ঋণে নির্দিষ্ট টার্গেট নিয়ে আমাদের খাতগুলোকে টেনে তুলতে হবে। যে মুহূর্ত থেকে আমরা এই স্বনির্ভরতা অর্জন করবো, সাম্প্রদায়িক ও আদর্শিক প্রেসক্রিপশনগুলো ছিড়ে ফেলে বাঙালী হিসেবে নিজেদের ভাবতে শুরু করবো, বাংলাদেশ দাড়িয়ে যাবে। আমাদের ব্যবসা, আমাদের শিল্প, আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের সামরিক শক্তি সব মিলিয়ে বাংলাদেশ দাড়িয়ে যাবে। সমৃদ্ধ মানুষের কদর থাকে, সমৃদ্ধ দেশেরও থাকে। আমাদের ওই আইডেন্টিটিটা চলে আসলেই কেউ আমাদের কিছুই করতে পারবে না। আমাদের কোনো পরাশক্তির দালালী করে রাজনৈতিক দলভারিও করতে হবে না। মুক্তিযোদ্ধারাও বুঝি এমন একটা দেশের স্বপ্নই দেখেছিলো। স্বাধীন দেশ। স্বনির্ভর।
সেই স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে বাঙালী জাতীয়তাবাদকে ধারণ করেই এগোচ্ছে বর্তমান সরকার। সুবাদেই নড়বড়ে হয়ে পড়েছে দীর্ঘদিন এদেশের সংবিধান এবং সার্বভৌমত্ব ও ইতিহাসে চেপে বসা স্বাধীনতাবিরোধীরা। পরজীবিরা। তাই বিপন্ন অবস্থায় তাদের একমাত্র ভরসা ওই ভারত জুজু এবং অপপ্রচার। এইসব ভাড়াটে বুদ্ধিজীবি ও লেখকদের সিন্ডিকেট সেই চল্লিশবছর ধরে একই লেখালেখি করে যাচ্ছে বটে কিছু বখে যাওয়া রাজনীতিবিদের সুপারিশে। তাদের মনোভাব সেই আগের জায়গাতেই রয়ে গেছে এখনও। সুখের কথা হচ্ছে বাংলাদেশের শিক্ষার হারটা আগের জায়গাতে নেই। শিক্ষিতের হার এবং সমঝদার অংশটা জনগনের মধ্যে বাড়ছে। তাই পুরানো জুজুতে আর কাজ হবে না ভায়ারা। একটা নতুন জুজু খোঁজো তোমরা, নতুন জুজু খোঁজো।