দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ : কিছু অজানা অধ্যায়

পোস্টারঃ কনসার্ট ফর বাংলাদেশ
পোস্টারঃ কনসার্ট ফর বাংলাদেশ

My friend came to me,

With sadness in his eyes,

He told me that he wanted help,

Before his country died,

Although I couldn’t feel the pain,

I knew I’d have to try,

Now I’m asking all of you,

To help us save some lives (Bangladesh: George Harrison)

……………………………………..

শুরুর কথা :

অনেক আগে কোনো এক পোস্টে রাগিবের একটি মন্তব্য মনে গেঁথে গিয়েছিলো। শিকাগোয় কোনো এক সরকারী দপ্তরে একবার একটা কাজে গিয়েছিলো সে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তার নাগরিকত্ব জানার পর বেশ নস্টালজিক হয়ে বলেছিলেন,‘জানো,তোমার দেশের জন্য নিউইয়র্কে যে কনসার্ট হয়েছিলো,আমি সেটাতে গিয়েছিলাম,সেই কনসার্ট ফর বাংলাদেশের এলপি-টা কিনেছিলাম। তোমার দেশের স্বাধীনতায় অন্য কোনো অবদান না রাখতে পারি,এই সাহায্যটুকু করার চেষ্টা করেছিলাম।’ একজন কৃতজ্ঞ বাঙালী হিসেবে রাগিব তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলো নিশ্চিত। তবে এটা নিশ্চয়ই বলেনি-তোমার ও তোমাদের সেই আন্তরিক অনুদানের বেশীরভাগ আমার দেশের মানুষ পেয়েছে প্রায় এক যুগ পরে! ঠিক তাই। নানা আইনী ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার শিকার হতে হয়েছিলো মহৎ এই উদ্যোগ থেকে সংগ্রহীত তহবিলকে। উইকিতে ব্যাপারটা পড়ে আমাকে জানিয়েছিলেন হাসান শহীদ ফেরদৌস। ‘আমি লিখবো’- বলে আইডিয়াটা একরকম ছিনিয়ে নিয়ে শুরু করলাম ঘাটাঘাটি। সুবাদেই উঠে এলো এর নেপথ্যের নানা কাহিনী- বিটলসের ঘরোয়া বিবাদ, নিক্সন প্রশাসনের দমননীতি, রেকর্ড কোম্পানীগুলোর বেনিয়াগিরিসহ অনেককিছুই। সেইসঙ্গে শ্রদ্ধায় আরেকবার নত হলাম জর্জ হ্যারিসনের মহানুভবতায়। এই পোস্টটি নেপথ্যে ঘটে যাওয়া সেসব ঘটনা নিয়ে যার টাইমলাইন এক যুগেরও ওপর। যার অনেকখানি অনেকেরই অজানা।

দ্য কনসার্ট : পরিকল্পনা ও ঘাত-প্রতিঘাত

১ আগস্ট ১৯৭১। এদিন নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে যুদ্ধপীড়িত বাংলাদেশের শরণার্থীদের সাহায্য করার জন্য আয়োজিত হয়েছিলো দুটো কনসার্ট। ঠিক পড়েছেন। একটি নয়, দুটো কনসার্ট। প্রতিটি চারঘণ্টা দৈর্ঘ্যের এই কনসার্টের প্রথমটি শুরু হয়েছিলো দুপুরে। দ্বিতীয়টি সন্ধ্যা ৭টায়। দূর্গত মানবতার পক্ষে এমন আয়োজন ইতিহাসে সেটাই প্রথম (তারকা উপস্থিতির বিচারে) এবং পরে ইথিওপিয়ার জন্য লাইভ এইড কনসার্টসহ অনেক উদ্যোগের পাথেয় ছিলো এটি। এবং শিক্ষাও। কি অর্থে তার ব্যাখ্যায় পরে আসছি।

কিভাবে ধারণাটির জন্ম তার অনেকরকম বক্তব্য পেয়েছি। তবে রবি শংকর ও হ্যারিসনের একাধিক সাক্ষাতকারকে আমলে নিয়ে গল্পটা দাঁড়িয়েছে এমন- ’৭০ সালে ভোলায় প্রলয়ঙ্কারী সাইক্লোনটির পরপরই বাংলাদেশের বন্যাদূর্গতদের জন্য কিছু করার কথা ভাবছিলেন রবি শংকর। ব্যাপারটি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন তার ছাত্র ও বন্ধু জর্জ হ্যারিসনের সঙ্গে। হ্যারিসন অনেকদিন ধরেই ভারতীয় রাগ সঙ্গীতের প্রতি অনুরক্ত, সুবাদেই সেতার শিখছিলেন শংকরের কাছে। এরপর বিটলসের নিজস্ব কোম্পানি অ্যাপেল রেকর্ডসে রবি শংকর রেকর্ড করেন ‘জয় বাংলা’ আর হ্যারিসন তার ‘বাংলাদেশ’ সিঙ্গলটি। উদ্দেশ্য গানের বিক্রি ও রয়ালটি বাবদ টাকা বন্যাদূর্গতদের জন্য ব্যয়। এই উদ্দেশ্যটা নেওয়া হয়েছিলো রেকর্ডিং শুরুর আগেই। ততদিনে যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে বাংলাদেশে।

এবার অনুরোধে পরিবর্তন আনলেন শংকর। হ্যারিসনকে বললেন ছোটোখাটো একটা কনসার্ট আয়োজনের। উদ্দেশ্য ২৫-৩০ হাজার ডলার সংগ্রহ করে শরণার্থীদের সাহায্য করা। হ্যারিসন প্রস্তাবটা লুফে নিলেন তবে তার মাথায় এলো অন্য চিন্তা। বিটলসের একজন সদস্য হিসেবে নিজের তারকামান ও বাজারদর চিন্তা করে এই আত্মবিশ্বাস জন্মালো যে কমপক্ষে এক মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করা খুবই সম্ভব। ১৯৮০ সালে প্রকাশিত আত্মজীবনি I Me Mine, এ এই প্রসঙ্গে হ্যারিসন লিখেছেন- ‘The Beatles had been trained that if you’re going to do it, you might as well do it big, and why not make a million dollars?”

জুনের শুরুতে প্রস্তাবটি নিয়ে মাথা ঘামাতে শুরু করলেন হ্যারিসন। ফোন করতে লাগলেন গায়ক-বাদক বন্ধুবান্ধবকে। ভেন্যু ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেন খালি পাওয়া গেলো ১ আগস্ট, আগে বা পরের সব তারিখ বুকড। তবে এব্যাপারে একটি চমকপ্রদ তথ্য জানা যায় কনসার্ট ফর বাংলাদেশ ফিল্মটির পরিচালক সউল সুইমার্সের ভাষ্যে। তার মতে হ্যারিসন শুরুতে ভাবছিলেন নিউইয়র্ক টাউনহল ভাড়া নেওয়ার কথা। Saul Swimmer, says Harrison initially wanted to do the show at New York’s intimate Town Hall: “He didn’t think he could sell out the Garden. He was very insecure.”

তবে এই অনিশ্চয়তার পেছনেও কারণ ছিলো। রক অ্যান্ড রোলের ভুবনে তখন এক হুতাশকাল। বছরখানেক আগে ভেঙ্গে গেছে কিংবদন্তীর ব্যান্ড বিটলস। অংশীদারিত্ব নিয়ে মামলামোকাদ্দমাও শুরু হলো বলে। এক মোটর সাইকেল দূর্ঘটনায় মারাত্মক আহত হয়ে অনেকদিন মিউজিকের বাইরে বব ডিলান। এরিক ক্ল্যাপটন ভুগছেন হেরোইন আসক্তিতে। হ্যারিসন নিজেও বছর দুয়েকের ওপর হলো পাবলিক কনসার্ট করেননি কোনো। মূলত নিজের ঘনিষ্ঠ বন্ধুবান্ধবদেরই আয়োজনটি সংশ্লিষ্ট করার ইচ্ছে তার। সুবাদেই আয়োজন হচ্ছে ‘হ্যারিসন অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ নামেই। বাদ পড়েননি বিটলরাও। লেনন রাজী হলেন। ম্যাককার্টনি সোজা না বলে দিলেন। রিঙ্গো স্টার জানালেন তিনি আছেন।

ম্যাককার্টনির না’য়ের ব্যাপারটা প্রাক-কনসার্ট সংবাদ সম্মেলনে বেশ স্বাভাবিক স্বরেই জানিয়েছেন হ্যারিসন। এ প্রসঙ্গে পরে এক সাক্ষাতকারে ম্যাককার্টনি বলেছেন : George invited me, and I must say it was more than just visa problems. At the time there was the whole Apple thing. When the Beatles broke up, at first I thought, “Right, broken up, no more messing with any of that.” George came up and asked if I wanted to play Bangla Desh and I thought, blimey, what’s the point? We’re just broken up and we’re joining up again? It just seemed a bit crazy. There were a lot of things that went down then, most of which I’ve forgotten now. I really felt annoyed — “I’m not going to do that if he won’t bloody let me out of my contract.” Something like that.

লেননের ব্যাপারটা ছিলো আরো অদ্ভুত। বিটলস ভাঙ্গার পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে ধরা হয় ইয়োকো ওনোর সঙ্গে তার প্রেমকে। রাজী হওয়ার পর হ্যারিসন তাকে একটাই শর্ত দেন, সেটা ছিলো ইয়োকোকে ছাড়া আসতে হবে কনসার্টে। লেনন রাজী হন তাতে। কনসার্টের দু’দিন আগে হোটেলে এ নিয়ে বচসা হয় ইয়োকা আর লেননের। লেনন জানান হ্যারিসনের শর্তের কথা। কথাকাটির এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত লেনন সোজা ফিরে যান দেশে। খানিকপর হ্যারিসন তাকে রিহার্সেলের জন্য খুঁজতে এসে জানেন যে লেনন চলে গেছেন।

এনিয়ে ইয়োকো ওনোর ভাষ্যটা অন্যরকম : Then a phone call came and John picked it up. He was saying “Yeah….yeah…..yeah,” I saw that he was getting very upset. He hung up the phone without saying a word. ―What was that?” “Oh, that was George.” A long pause.‖ He‘s saying. ‘Join the Bangladesh concert,’ and all that. Dylan is coming. too. I’m not going.” “Why? I think we should go. It’s a charity. It’s for a good cause.” I said. ―We‘re not doing it.” “Why?” “Because it’s George’s little thing. We‘ll do our own. you and me.” “I think we should

go”, I said. “Does it matter that it’s George’s?” John was getting angrier and angrier. I was getting angry. too. I thought John was being big-headed about it…. There is a twist to the story of “that morning.” I heard much, much later, that George Harrison told John to come alone to the Bangladesh show, without me, that is. Was that the real reason John did not want to do the show? I guess I will never know.

পরে প্লেবয়কে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে চ্যারিটি কনসার্ট ব্যাপারটাকে স্রেফ ধান্দাবাজি বলে অভিহীত করেছেন লেনন। তার ভাষায় I don’t want to have anything to do with benefits. I have been benefited to death… Because they’re always rip-offs. I haven’t performed for personal gain since 1966, when the Beatles last performed. Every concert since then, Yoko and I did for specific charities, except for a Toronto thing that was a rock-‘n’-roll revival. Every one of them was a mess or a rip-off. So now we give money to who we want. আর বাংলাদেশ কনাসর্ট সম্পর্কে তার মন্তব্য : Bangladesh was caca.

PLAYBOY: You mean because of all the questions that were raised about where the money went?

LENNON:Yeah, right. I can’t even talk about it, because it’s still a problem. You’ll have to check with Mother [Yoko], because she knows the ins and outs of it, I don’t. But it’s all a rip-off. So forget about it.

কনসার্টের প্রেস কনফারেন্স
কনসার্টের প্রেস কনফারেন্স

সাক্ষাতকারে লেনন যে আইনী জটিলতা ও ঝামেলার কথা বলেছেন তা নিয়ে বিস্তারিত আলাপ হবে পরের পর্বে। তবে পুরো কনসার্ট আয়োজনে একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিলো বিটলসের ম্যানেজার এলান ক্লেইনের। মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে শার্ক নামে কুখ্যাত এই লোকই কনসার্ট ফর বাংলাদেশ নিয়ে যাবতীয় কেলেঙ্কারীর নেপথ্যে। সে প্রসঙ্গেও পড়ে আসছি। তবে লেননের এই প্রত্যাখ্যানের জবাব হ্যারিসন দিয়েছিলেন ’৭৪ সালে ১৪ ডিসেম্বর। ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনেই একটি কনসার্টে হ্যারিসনকে অংশ নিতে অনুরোধ জানান লেনন, জবাবে হ্যারিসন একটু তিক্ত স্বরেই বলেন-‘যখন তোমাকে আমার দরকার ছিলো, তখন কোথায় ছিলে?’ অবশ্য কনসার্টে ঠিকই অংশ নেন হ্যারিসন।

২৮ এপ্রিল ক্লেইনের এবিসিকেও অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে কনসার্ট সম্পর্কে ঘোষণা দেন হ্যারিসন। অবশ্য তার আগেই, জুলাইয়ের শুরুতেই একটি ছোটো বিজ্ঞাপন ছাপা হয় নিউইয়র্ক টাইমসের পেছন পাতায়। ‘হ্যারিসন অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ দুটো কনসার্ট আয়োজন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশের জন্য। বিটলদের সম্ভাব্য রিইউনিয়নের আঁচ পেয়েই হোক, তারকাদের নাম দেখেই হোক, কিংবা বহুদিন পর কনসার্ট হচ্ছে এই খুশীতেই হোক- ছয় ঘণ্টার মধ্যেই দুটো কনসার্টের ৪০ হাজার টিকেট শেষ। এমনিতে সাংবাদিকরা ফ্রি টিকেট পেয়ে থাকেন, তবে তারাও এই উদ্যোগের নেপথ্য কারণ জেনে ১২ হাজার ডলার অনুদান দিলেন আয়োজকদের। যদিও সবাই যে ব্যাপারটিতে হ্যারিসনের ভালো মানুষী কিংবা মহৎ কিছুর খোঁজ পেয়েছেন এমন নয়। ইয়োকো-লেননের বাদানুবাদে যেমনটি উঠে এসেছে, তেমন ভাবনা কিন্তু অনেকেই ভেবেছেন। এনিয়ে পরে এক সাক্ষাতকারে হ্যারিসন আক্ষেপ নিয়েই বলেছেন : “The Concert for Bangladesh was just a moral stance. These kinds of things have grown over the years, but what we did showed that musicians and people are more humane than politicians. Today people accept the commitment rock and roll musicians have when they perform for a charity. When I did it, they said things like, ‘He’s only doing this to be nice.'”…

সংবাদ সম্মেলনেও তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিলো যে দুনিয়াতে এত সমস্যা থাকতে হঠাৎ বাংলাদেশ প্রসঙ্গ তার কাছে গুরুত্ব পাচ্ছে কেনো। হ্যারিসনের সোজাসাপ্টা উত্তর ছিলো তার গানের কথাগুলোর মতোই : আমার বন্ধু আমার কাছে সাহায্য চেয়েছে, আমার মনে হয়েছে আমার তার পাশে দাঁড়ানো উচিত। “With all the enormous problems in the world, how did you happen to choose this one to do something about?” “Because I was asked by a friend if I would help, you know, that’s all,” was Harrison’s reply.

যদিও সংবাদ সম্মেলনে পূর্ব পাকিস্তান অর্থাৎ বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমস্যাটা আলোচিত হয়েছে, কিন্তু কনসার্টের উদ্যোগে সেই বিষয়টা সচেতনভাবেই এড়াতে চেয়েছেন হ্যারিসন। যাতে কোনো রাজনৈতিক রং না লাগে এবং নিক্সন প্রশাসন না চটে, সেজন্য বাংলাদেশের দূর্গত শিশুদের ত্রানের কথা বলেছেন তিনি। জানিয়েছেন কনসার্ট থেকে পাওয়া সব অর্থ ইউনিসেফের মাধ্যমে শরণার্থী শিশুদের সাহায্যে পাঠানো হবে। এমনকি কনসার্টের পোস্টারেও ব্যবহৃত হয়েছে একটি শিশুর ছবি, রেকর্ড লেবেলেও। আর এটা নিয়েও কম বিতর্ক হয়নি।

অনিশ্চয়তা কিন্তু তখনও শেষ হয়নি। পিটার লেভেজলির লেখা ‘উইদ আ লিটল হেল্প ফ্রম মাই ফ্রেন্ডস’ বইতে ড্রামার জিম কেল্টনার জানিয়েছেন সময়টার কথা। গার্ডেনের এক হোটেল বেসমেন্টে দুদিন রিহার্সেল করেছেন তারা। ডিলানের অংশগ্রহণ একদমই অনিশ্চিত বলে প্রচারণায় তার নামই উল্লেখ করা হয়নি। ক্ল্যাপটন রিহার্সেলে আসা দূরে থাক,তখনও লন্ডনে। উদ্যোক্তরা শেষ পর্যন্ত তার আশা যখন ছেড়েই দেন, তখন ক্ল্যাপটন হাজির। জানা যায় তিনি হেরোইন সমস্যায় আক্রান্ত। হ্যারিসন তাকে কনসার্টে অংশ নেওয়ার জন্য হেরোইন জোগাড় করে দেন, কিন্তু সেগুলো বাজে কোয়ালিটির বলে অভিযোগ করেন ক্ল্যাপটন যা তাকে আরো অসুস্থ করে ফেলে। সব মিলিয়ে হ্যারিসন ছিলেন প্রচণ্ড নার্ভাস। পত্রিকার বাইরে কারো ধারণাই নেই বাংলাদেশ-এর বিষয়টা আসলেই কি! আর এই নার্ভাসনেস ছিলো দুপুরের কনসার্টের অনেকখানি সময় জুড়েই। সবার মাঝেই।

সংক্ষিপ্ত লিংক http://combostruct.com/3pjF