কোন পিরিতির গল্প কইতেছো মামুরা!!!!

ছোটবেলায় কুফরি কালাম বইলা একটা কথা শুনছিলাম। অনেকটা ব্ল্যাক ম্যাজিক টাইপের ব্যাপার। নামেই বুঝা যায় আল্লাহর পবিত্র কালামের কুফরি ব্যবহারই এর সার কথা। এই সিস্টেমে পবিত্র কোরআন শরীফ নাকি উল্টা কইরা পড়তে হয়, তারপর ইবলিস আইসা বান্দার যাবতীয় মনোবাঞ্ছা পূরণ করবে। অনেকটা গল্পের ডঃ ফসটাসের মতো দ্বীন দুনিয়ার অশেষ ক্ষমতা লাভ হবে শয়তানের কাছে আত্মা বিক্রির মাধ্যমে। ধারণা করি এই কুফরি কালামের চর্চাটা জামায়াতে ইসলামী এবং তার বশংবদ ইসলামী ছাত্র শিবির বেশ ভালো মতোই করে।

কোরআন শরীফে একজন ঈমানদার মুসলমান হওয়ার যা যা নির্দেশিকা তার ঠিক উল্টাটাই করে যুদ্ধাপরাধীদের এই দলটা। তারা গিবত করে, তারা মিথ্যা প্রপোগান্ডা চালায়, হত্যা করে, ষড়যন্ত্র করে, সাম্প্রদায়িকতার চর্চা করে, সারাক্ষণ হিংসাদ্বেষ নিয়ে কাটায়। মোটের উপর কবিরা গুনাহ বলতে যা যা লিপিবদ্ধ, তার সবই জামায়াত অনুগতদের নিত্যকার যাপনের অঙ্গ।

অবশ্য এইটাই তো প্রত্যাশিতই। কারণ তারা তো মুসলমান না, মোনাফেক। মুসলমানের ভেকধারী। আল্লাহর নবী বলছেন : শেষ জমানায় কিছু প্রতারক সৃষ্টি হবে। তারা ধর্মের নামে দুনিয়া শিকার করবে। তারা মানুষের নিকট নিজেদের সাধুতা প্রকাশ ও মানুষকে প্রভাবিত করার জন্য ভেড়ার চামড়ার পোষাক পড়বে (মানুষের কল্যাণকারী সাজবে)। তাদের রসনা হবে চিনির চেয়ে মিষ্টি। কিন্তু তাদের হৃদয় হবে নেকড়ের হৃদয়ের মতো হিংস্র। (তিরমিজী) আমার চোখে তো এই শর্তাবলী পূরণে জামায়াত-শিবির ছাড়া আর কিছু পড়ে না।

এত্ত বড় ভূমিকা দিয়া ফেললাম প্রাসঙ্গিক কারণেই। সম্প্রতি ফেসবুক আর ব্লগ মোটকথা অনলাইন ভইরা গেছে জামাতিগো মোনাফেকির নয়া নিদর্শনে। কয়েকটা ছবি কোলাজ কইরা বলা হইতেছে জামায়াত নামে এই ভন্ড ও ছদ্ম মুসলমানের দলটা নাকি আওয়ামী লীগের যুগে যুগে মিত্র, আন্দোলনের সাথী। হেব্বি মার্কেট পাইছে গপ্পোটা। কারণ ছাগুরা কইরা খাইতে পারতেছে কিছু বলদের কারণে। এইসব বেক্কলরে কন ওগো কান চিলে নিয়া গেছে, দেখবেন চিলের পিছে দৌড়াইবো, তাও কানে হাত দিবো না। এই ছাগবান্ধব ভোক্তাকুলই জামায়াতের সকল প্রোপাগান্ডার মূল শক্তি, কারণ এরা তো মাথা খাটায় না। যা গিলাইবেন তাই গিলবো।

তো কোলাজ কইলাম চেঞ্জ হয়। কখনও মুজিব-মওদুদী, কখনও মুজিব-গোলাম আযম দিয়া শুরু স্বাধীনতাপূর্ব আওয়ামী লীগ-জামায়াত পিরিতের। কমন হইলো শেখ হাসিনা ওয়াজেদের এক সংবাদ সম্মেলনে একটা চেয়ারে নিজামীর উপস্থিতি। সঙ্গে মিলাইতে শেখ সেলিমরে আমদানি করা হইছে। নিজামীর লগে হাত মিলাইতেছে। আর ক্যাপশনও মাশাল্লাহ একেক ছবিতে একেক রকম।

ছবিগুলার বর্ণনা দেওয়ার আগে হালকা একটু রাজনীতি নিয়া কথা বলি। পাকিস্তানের জন্য আন্দোলনে জামায়াতের অবস্থান কি ছিলো? আবুল আলা মওদুদী তো পাকিস্তান চায় নাই। সে তো এইটার বিরুদ্ধে অবস্থান নিছিলো। তো লাড়কে লেঙ্গে পাকিস্তান শ্লোগান দিয়া যখন মুসলিম লিগের মুজিব রাস্তায় চিল্লাফাল্লা করতেছে তখন মওদুদীর জামায়াত এইটারে ষড়যন্ত্রের রাজনীতি বইলা লোকেরে বুঝাইছে। জামায়াতের জন্ম সিআইয়ের ঔরসে, কম্যুনিজমরে রিলিজিয়ন দিয়া মোকাবেলার জন্য তারা ধর্মীয় লেবাস পড়া একদল খুনি ঘাতক তৈরি করছিলো এই নামে, যেমন ইন্দোনেশিয়ায় লাখো কম্যুনিস্ট হত্যা করছিলো তাগো পোষা ইসলামিস্টরা। এদের নেতা মওদুদী সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিয়া কাদিয়ানী দাঙার মাধ্যমে হাজার হাজার মানুষ মারাইছিলো। এই জন্য তার ফাসির আদেশও হইছিলো যা তার বাপ আমেরিকায় প্রেশার দিয়া ঠেকাইছে। বিশ্বাস হয় না? নীচের তারবার্তা পড়েন ।

তো শেখ মুজিবের লগে মওদুদীর মোলাকাত কি উপলক্ষ্যে? যেই ছবিটায় সে মুজিবের বাম পাশে বসা এবং মুজিব তার মতো মুরুব্বী মাওলানারে দুই পয়সার দাম না দিয়া আপন মনে পাইপ খাইয়া যাইতেছেন ওইটা ১৯৬৬ সালে লাহোরে তোলা। ওইখানে বাঙালীর স্বাধীকার আদায়ের মূলমন্ত্র ছয় দফার ঘোষণা দিছিলেন শেখ মুজিব। পুরা এলাকা বিলা কইরা দেশে ফিরছেন বঙ্গবন্ধু। মওদুদী কি মুজিবের দাবিতে সমর্থন দিছিলো? প্রশ্নই ওঠে না। বরং উস্কানি দিছে মুজিব পাকিস্তান ও ইসলামের লগে শত্রুতা করতেছে। ১৯৬৬ সালের ১৮ মার্চ ৬-দফা প্রসঙ্গে এক ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলছেন:

আমার প্রিয় দেশবাসী ভাই ও বোনেরা,
আমি পূর্ব পাকিস্তানবাসীর বাঁচার দাবীরূপে ৬-দফা কর্মসূচী দেশব্যাপী ও ক্ষমতাসীন দলের বিবেচনার জন্য পেশ করিয়াছি। শান্তভাবে উহার সমালোচনা করিবার পরিবর্তে কায়েমি স্বার্থবাদীদের দালালেরা আমার বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা শুরু করিয়াছে। অতীতে পূর্ব পাকিস্তানবাসীর নিতান্ত সহজ ও নায্য দাবী যখনই উঠিয়াছে, তখনই এই দালালরা এমনিভাবে হৈচৈ করিয়া উঠিয়াছেন। আমাদের মাতৃভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবী, পূর্ব পাক জনগণের মুক্তি-সনদ একুশদফা দাবিযুক্ত নির্বাচন প্রথার দাবী, ছাত্র-তরুণদের সহজ ও স্বল্পব্যয়ে শিক্ষা লাভের দাবী, বাংলাকে শিক্ষার মাধ্যম করার দাবী ইত্যাদি সকল প্রকার দাবীর মধ্যেই এই শোষকের দল ও তাহাদের দালালেরা ইসলাম ও পাকিস্তান ধ্বংসের ষড়যন্ত্র আবিষ্কার করিয়াছেন। …

 

দ্বিতীয় মোলাকাত ১৯৬৯ সালে রাজনৈতিক দলগুলার সমন্বয়ে গঠিত ডেমোক্রেটিক অ্যাকশন কমিটির (আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি ছিলো খন্দকার মোশতাক আর সৈয়দ নজরুল ইসলাম) সঙ্গে আইউবের রাউন্ড টেবিল বৈঠকে। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বন্দী শেখ মুজিব প্যারোলে সেখানে যাইতে অস্বীকৃতি জানাইলেন। ভাসানী এই বৈঠক বর্জন করছিলেন। মুজিবরে ছাড়া বৈঠকে যাবে না বইলা জানাইলো মুসলিম লীগ (সবুর)। মুজিব মামলা থেকে মুক্তি পাইয়া সেখানে গেলেন, এবং আবারও ছয় দফা নিয়াই কথা কইলেন। মওদুদী দিলেন ইসলামী আচরণ বিধির উপর বক্তৃতা যা ঠিকমতো পালন করলে নাকি দুই পাকিস্তান ঐক্যবদ্ধ থাকবে। মুজিব কনফারেন্স থিকা বাইর হইয়া ভালো মতো ধুইলেন দলগুলারে। যেহেতু তার ছয় দফায় এরা সাপোর্ট দেয় নাই, আওয়ামী লীগ বের হয়ে গেলো ডিএসি থেকে। ডিএসি ডেড।

এরপর আমরা শেখ মুজিবকে লেখা মওদুদীর একটা টেলিগ্রামের কথা জানতে পারি দৈনিক সংগ্রামের সৌজন্যে। ২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৭১ সালে প্রকাশিত ওই টেলিগ্রামে মওদুদী আক্ষেপ নিয়া মুজিবরে লিখছে গত দুই বছর ধইরা আপনে আমারে যা তা বলছেন, তাও আমি পাকিস্তান বাচাইতে আপনারে এই টেলিগ্রামটা পাঠাইছি। সো, বোঝা যাইতেছে পীরিতি আছিলো না।

আসি ঘাতক-দালাল শিরোমনি গোলাম আযমের লগে বঙ্গবন্ধুর দোস্তি প্রসঙ্গে। ব্যাপক মাস্তি। মনের মাধুরী মিশায়া ক্যাপশন লিখা হয় এবং ঘটনার বর্ণনা দেওয়া হয়। আগে চলেন ছবিটা ছাগুগো ল্যাদানিতে কি কি রূপ পাইছে দেখা যাক।
মূল কোলাজে:

 

ছবির বিবরণে বলা হইছে ১৯৭০ সালে নির্বাচনে জয়ী হইয়াও ক্ষমতা না পাওয়ায় আওয়ামী লীগ বৈঠকে দলের কর্মসূচী নির্ধারণ করতেছে, আর সেইখানে গোলাম আযম উপস্থিত। গোলাম আযম কি আওয়ামী লীগের নায়েবে আমীর আছিলো নাকি তখন! আওয়ামী লীগের দলীয় বৈঠকে গোলাম ঢোকার আর কোনো সহী তরিকা তো আমি দেখি না। ছবির আসল গল্পটা বলার আগে এই কোলাজের কৌশলটা দেখেন। গোলাম আর বঙ্গবন্ধু দুইজনরে লালচাক্কি দিয়া দাগায়া ভাসুর বানায়া দিছে যেন দুইজনই ডাইন দিকে তাকায়া মিটিং করতেছে। লাল দাগ দিয়া মুজিব যার লগে আড্ডা দিতেছেন চা খাইতে খাইতে কৌশলে গোলদাগ দিয়া তারে আড়াল কইরা দেওয়া হইছে। অথচ গোলাম ওইখানে ছাগলের তিননম্বর বাচ্চার মতো বইসা আছে তার দিকে কারো খেয়াল নাই।

আসেন এইবার মূল গল্পে। ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর নির্বাচন হইছে। ইয়াহিয়া ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা আইসা বইলা গেছেন শেখ মুজিব ভাবী প্রধানমন্ত্রী। টাল্টিবাল্টি তো শুরু হইলো মার্চে। মুজিব তো জিত্যাই ক্ষমতা দাবি কইরা বসেন নাই যে এক্ষুনি দিতে হইবো। তাইলে ৭০ সালে ওই মিটিং ক্ষমতার দাবিতে হয় নাই। কাহিনী আসলে ঘটছে সেই বছর জানুয়ারিতে। সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়ার পর পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর সৈয়দ আহসান সবাইরে ডাকাইছে ডিনারে। সেইখানে আর সবার মতো গোলামও গেছে। রাজনৈতিক দলগুলার প্রধান হিসেবে তার স্ট্যাটাস ওইখানে উপস্থিতদের মধ্যে বলতে গেলে সবার নিচে। কারণ বাকি সবাই্ দলীয় প্রধান হইলেও গোলাম জামাতের আঞ্চলিক আমির মাত্র। তাছাড়া জামাতরে পুছেনি বাঙালী! আর বঙ্গবন্ধু তার লগে অন্তরঙ্গ কথা কইবেন! ছাগুর স্বপ্নদোষ আর কি!

একই অনুষ্ঠানে আরেকটা ছবি আছে। বঙ্গবন্ধু দাড়ায়া আড্ডা দিতেছেন খানএ সবুরসহ আরেকজনের লগে। পাশ দিয়া গোলাম হাইটা যাইতেছে। ওই ছবিটাও এক ছাগু পোস্টে ব্যবহার করছে এই ক্যাপশন লিখা- অন্তরঙ্গ ভঙ্গিতে আলাপরত শেখ মুজিব ও গোলাম আযম! হাহাহাহাহাহাহা। হাহাহাহাহাহা।

আসলে বঙ্গবন্ধু মওদুদীর গেলমান গোলামরে দেখতে পারতেন না। কারণ তার মোনাফেকি। নির্বাচনের আগে থিকাই জামাত কইতেছিলো ছয় দফা হইলো দেশ থিকা ইসলাম নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্র। নির্বাচনের আগে নভেম্বরে তাই মুজিব রেডিও ভাষণে বলছেন:

 ..আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার হচ্ছে আমরা ইসলামে বিশ্বাসী নই। এ কথার জবাবে আমাদের সুস্পষ্ট বক্তব্য লেবেল সর্বস্ব ইসলামে আমরা বিশ্বাসী নই। আমরা বিশ্বাসী ইনসাফের ইসলামে। আমাদের ইসলাম হযরত রাসুলে করিম (স.) এর ইসলাম। যে ইসলাম জগতবাসীকে শিক্ষা দিয়েছে ন্যায় ও সুবিচারের অমোঘ মন্ত্র। ইসলামের প্রবক্তা সেজে পাকিস্তানের মাটিতে বরাবর যারা অন্যায়, অত্যাচার, শোষণ, বঞ্চণার পৃষ্টপোষকতা করে এসেছেন, আমাদের সংগ্রাম সেই মোনাফেকদেরই বিরুদ্ধে। যে দেশের শতকরা ৯৫ জনই মুসলমান সে দেশে ইসলাম বিরোধী আইন পাশের সম্ভাবনার কথা ভাবতে পারেন কেবল তারাই ইসলামকে যারা ব্যবহার করেন দুনিয়াটা ফায়স্তা করে তোলার কাজে।…

কে না জানে এই অপপ্রচার আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে এখনও ব্যবহার করে গোলামের গেলমানরা।

কাহিনী এইখানেই শেষ না। ১৯৭০ সালের জুন মাসে এক বক্তৃতায় মুজিব স্পষ্ট কইছেন দেশে মার্শাল ল না থাকলে গোলাম আযমের মতো মীর জাফররে প্লেইনে তুইলা পূর্ব পাকিস্তান থিকা খেদাইয়া দিতেন। দৈনিক সংগ্রামে সেইটার আবার জবাবও দিছে গোলাম। সেইখানে কোটে আছে মুজিব কি কইছিলেন। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ এরপর নির্ধারণ কইরা দিছে ইতিহাসে দুইজনের অবস্থান।

ফর দ্য রেকর্ড- কি সেই মীর জাফরী? মুজিব যখন বাঙালীর মুক্তির জন্য ছয় দফারে নির্বাচনী ম্যানিফেস্টো বানাইছে। তখন গোলাম লাফাইতেছে ৫-দফা নিয়া। কার ৫ দফা। ইয়াহিয়ার ৫ দফা। জামাত সারাজীবনই সেনাবাহিনীর পা-চাটা দল। নিউজ দেখেন:

এইবার আসি কোলাজের দ্বিতীয়ভাগে। শেখ হাসিনার লগে নিজামী নাকি সংবাদ সম্মেলনে বক্তৃতা দিতেছে। উপরের কোলাজে আছে ’৯৬ সালের কাহিনী এইটা। আবার একই ছবি ফ্লিপ কইরা দেখা যাইতেছে ক্যাপশন সহকারে ৯৫ সালের বানায়া দেওয়া হইছে। দুইখানেই শেখ হাসিনার পরনে কালো ব্যাজ আছে। দুইখানেই টেবিলের সীমানার বাইরে একটা চেয়ারে নিজামী বসা। সংবাদ সম্মেলন সম্পর্কে যার মিনিমাম আইডিয়া আছে তার জানার কথা বক্তাদের আসন কই থাকে। আর রবাহূতদের কোথায়। পরপর দুইবছর নিশ্চয়ই একই স্টাইলে ছবি তোলা হয় নাই।

আজ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামাত কোথাও সিট ভাগাভাগি করছে? একটা আসনেও? কোনো কালে জোট বাধছে। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে শেখ হাসিনার ১৫ দলীয় জোট, খালেদা জিয়ার ৭ দলীয় জোট। ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্চা ছিলো জামাত। রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম করার পর এরশাদের লগে আবার পীরিত শুরু, যখন মাঠে আওয়ামী লীগ-বিএনপি। পরে অবশ্য বোঝা গেছে আসল নাটক, কেডা তাগো পেয়ারি। এখন তো রাখঢাকও নাই। তো সেই মহিলার নাম না নিয়া হঠাৎ শেখ হাসিনার লগে, আওয়ামী লীগের লগে দোস্তি প্রচারের ভিমরতি কেনো হে ছাগুরা!! গোলামের লগে গল্প বানানোর থিকা লিখতা যে ফারুক-রশীদের সঙ্গে প্যান্ডা গার্ডেনে চাইনিজ খাইছে শেখ হাসিনা। ওইটা বরং বিশ্বাসযোগ্য হইতো।

 

মজার ব্যাপার হইলো শেখ হাসিনা নাকি গোলাম আযমরে পায়ে ধইরা সালাম কইরা দোয়া নিতে গেছিলেন। না কোনো ছবি নাই। তো জামাতের আবার ছবি লাগে নাকি। আপনে মাঠে দাড়ায়া বিড়ি খাইতেছেন, পাশে একটা গরু হয়তো ঘাস খাইতেছে। আপনে যদি আওয়ামী লীগ করেন, পরদিন সংগ্রাম-নয়াদিগন্ত-তমসম বেগম ছাপাইয়া দিবো আপনে মাঠে ঘাস খাইতেছিলেন গরুর লগে। গোলাম আযম সম্পর্কে শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত মনোভাব আমি জানি। গোলাম তার ৫০০ গজের মধ্যে নিষিদ্ধ। এবং শেখ হাসিনা যদি কোনোদিন তার নিকটবর্তী হন, সেটাও হবেন তার মুখে থুতু দিতে। এটলিস্ট ওয়াক আওয়াজটা করবেন। জনগনের মতো তিনি তো আর জুতা হাতে নিতে পারেন না। খোদার ঘরের উঠানে তার মতো মোনাফেকরে যেমন জুতাপেটা করছিলো মুসল্লীরা।

কোলাজে আরেকটা অংশ শেখ সেলিম।’৯১ সালের ২৭ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবল প্রহার করা হইছিলো আলবদর কমান্ডার নিজামীরে।ওরে মাইররে। মাথায় সিলাই পড়ছে। তারপর নাকি শেখ সেলিম তারে দেখতে গেছিলেন। ছবির ক্যাপশনে ওইটাই লেখা। নাকি শেখ সেলিমের বাসায় বিচার নিয়া গেছিলো নিজামী! ছবির মোশন তো ওইরকমই লাগে। নিজামীর বাড়ানো হাতে হাত মিলাইছে শেখ সেলিম। এই ভদ্রতাটা অবশ্যই তার অপরাধ হইছে মনে হইতেছে। বাট এগেইন, শেখ পরিবারের কোন সদস্যটা বেয়াদব!!

তো এইসব ভুংচাং ছাড়ো মামুরা। হুদাই ইতিহাসমূর্খ পাবলিকরে ভুজুং দিবা, তাগো মাথায় কাঠাল ভাইঙ্গা পাতা খাইবা। এইসবের দিন শেষ। বরং আসল নাগরের লগে যতো ছবি আছে, সেইগুলা ছাড়ো মার্কেটে:

 

বরং হ্যাডামে কুলাইলে আসল সখ্যতার ছবিগুলা দিও পাবলিকরে। তারা জানুক কি কঠিন পিরীত তোমাগো লগে আওয়ামী লীগের । স্যাম্পল দিলাম, ২৮ অক্টোবর লিখা সার্চ দিলে আরো পাইবা :

 

 

শেষ কথা: ছাগুগো দোষ আসলে কি দিমু! মওদুদী যা শিখাইছে গোলামরে, সে তাই শিখাইছে বাকিডিরে। কুফরি কালামের ওই কিতাবই এরা তোতাপাখীর মতো মুখস্ত করে আর উগড়ায়। নাইলে শেখ কামাল ১৯৭৬ সালে ব্যাংক ডাকাতি করছিলো ওইটা আর কোন নিরেট মস্তিষ্ক থিকা বের হবে। সেই কবে ফিরোজ কামালের বইয়ে একটা প্রিন্টিং মিস্টেক। সেই মিস্টেক এখনও জারি আছে!

নন-ছাগু পাঠক, সূত্র হিসেবে নিজের আর্টিকেলগুলা পইড়া নিয়েন, গিয়ান বাড়বে:

১. http://www.allaahuakbar.net/jamaat-e-islaami/maududi/brief_history_of_the_maududi_calamity.htm
২.http://publishing.cdlib.org/ucpressebooks/view?docId=ft9j49p32d&chunk.id=s1.7.19&toc.depth=1&toc.id=ch7&brand=ucpress
৩. http://www.thedailystar.net/forum/2007/march/marchtomarch.htm
৪.http://www.thedailystar.net/suppliments/2010/12/victory_day/countdown.html
৫. http://www.scribd.com/doc/100501938/Deobandi-Fatwa-Against-Mawdudi-and-Jamat-E-Islami

সংক্ষিপ্ত লিংক http://combostruct.com/4Dc2