সিরাজ শিকদার বিষয়ে আরও কিছু…

…Their long hair and flowing beard looked like a flag to us, the rifle in their hand was freedom’s signal. Just as Che and Castro had appeared as romantic heroes in the ’60s, after December 1971, thousands of Ches and Castros appeared in our midst.. But later, that same admiration is transformed to hate: .The fakes now appeared as revolutionaries; dressed in masks of Mao Zedong, Charu Majumdar, Guevara, they ran riot in our cities. Many of those revolutionaries were only killers, the core of their socialism was murder. They thought that random killings were class struggle… (হুমায়ুন আজাদ, আমরা কি এই বাংলাদেশ চেয়েছিলাম)

একটু ভুল বোঝাবোঝি হয়েছে। আগেই বলেছি সুইডেন প্রবাসী ডক্টর বাবুল আনাম মোহাম্মদ সারওয়ারে আলম ওরফে সূর্য্য রোকনের একটি অসমাপ্ত পান্ডুলিপিই সিরাজ শিকদারকে নিয়ে আমার সিরিজটির মূল প্রণোদনা হিসেবে ভূমিকা রেখেছে। এ বিষয়ে তার প্রতিক্রিয়াটিও আমি তুলে দিয়েছি নিচে । গোল বেধেছে তাকে সম্বোধনে। নামের আগে কমরেড শব্দটা তার ঠিক পছন্দ হয়নি। ফিরতি মেইলে উনি লিখেছেন তার এই রোকন ছদ্মনাম নেওয়ার রহস্য। কেনো তাকে কমরেড ডাকাটা উচিত হবে না। তার ভাষায় : কমরেড রোকন সম্বোধনে আমি বেশ অবাক হয়েছি। জীবনেও আমাকে কেউ কমরেড ডাকেনি আর আমি কখনও কোনো কম্যুনিস্ট পার্টির পূর্ণ সদস্য ছিলাম না। মণি সিংয়ের দলের ছাত্র সংগঠনে (ছাত্র ইউনিয়ন মতিয়া গ্রুপ) থাকার সময় রোকন নামটা নিয়েছিলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগে খন্দকার মঞ্জুর এলাহী বলে আমাদের এক সহপাঠী ছিলো যে ইসলামী ছাত্র সংঘ (বর্তমানে ইসলামী ছাত্র শিবির) করতো। আমাকে আর মাহবুবকে তার দলে নিতে খুব আগ্রহী ছিলো সে। জানলাম যে নিষিদ্ধ কম্যুনিস্ট পার্টির আদলেই তাদের সাংগঠনিক কাঠামো এবং সেল মেম্বারদের ডাকা হয় রফিক। অনেকগুলো সেলের নেতৃত্বে থাকে একজন রোকন, যার যোগাযোগ থাকে পার্টির আমিরের সঙ্গে। তো তখন ওই রোকন ছদ্মনামটা আমি নিলাম। যাহোক কখনোই কোনো জাতীয় নেতা হওয়ার উচ্চাশা আমার হয়নি। জন্মভুমির জন্য যখনই যেটা দায়িত্ব মনে হয়েছে করেছি। চার যুগ আগে রাজনীতি ছাড়লেও আমার অবস্থাটা দাড়িয়েছে আফগানের গল্পটার মতো- ম্যায় তো কম্বলিকো ছোড় দিয়া মগর কোম্বলি নে মুঝে নেহি ছোড়তা! অন্যদের চেয়ে আমার ঘটনা ভিন্ন।

১৯৭২ সালের জানুয়ারিতে সেলিম শাহ নেওয়াজ (সর্বহারা সদস্য, অন্তঃকোন্দলে নিহত) আমার সঙ্গে দেখা করতে মালিবাগের বাসায় আসে। যেহেতু আমি আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষনা দিয়ে বলিনি যে তাদের সঙ্গে আর নেই, তাই তাদের অনেকেই মনে করতো আমি তাদের সঙ্গেই বুঝি আছি। সেলিম শাহ নেওয়াজ সংগ্রাম চালিয়ে যেতে চায়। ১৯৭১ সালের যুদ্ধ থেকেও তার শিক্ষা হয়নি যখন গোটা বিশ্ব অন্ধ ও বোবা ছিলো। খারাপ মানুষদের কুকর্মের চেয়ে ভালো মানুষদের নিরবতাতেই বেশী উদ্বিগ্ন ছিলেন মার্টিন লুথার কিং। আমি সেলিম শাহ নেওয়াজকে বললাম- আমরা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি আর ভারত তাতে জয়ী হয়েছে। যদি তোমরা ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়ো, আমেরিকা তাতে জয়ী হবে। আমার ধারণা জেতার জন্য যথেষ্ট শক্তি যুক্তরাষ্ট্রের আছে, তাদের সাহায্য করতে তোমাদের জীবন বিসর্জন দেয়ার দরকার নেই। আমি দুঃখিত, সেলিম শাহ নেওয়াজ আমার কথা শোনেনি।

ঢাকা সেন্ট্রাল জেলে দু’বছর নষ্ট করার পর আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরি। প্রথম শ্রেনীতে প্রথম হয়ে আমি ডিপার্টমেন্টে যোগ দিই। জার্মান ও রুশ ভাষা শিখি এবং দু’বার লুবাম্বা ইউনিভার্সিটির স্কলারশীপ পাই (১৯৭৪ ও ১৯৭৬ সালে)। পার্টির সিদ্ধান্ত মেনে তখন মতিয়া গ্রুপের অনেকেই আওয়ামী লীগে যোগ দেয়। আবদুল মোনায়েম সরকার আমাকে মস্কো সফরে পাঠাতে চেয়েছিলেন। তখন ছাত্র ইউনিয়নের এক পুরানো সদস্য তাকে নিষেধ করে বলেন- ওকে মস্কো পাঠানোর দরকার নেই। ও বিভ্রান্ত। মস্কো পাঠালে সে নিশ্চিত নকশাল হয়ে যাবে।

আমার সিনিয়র সহকর্মী অধ্যাপক এলএম নাথের (নতুন ফিজিক্স বিল্ডিংয়ের নীচতলায় আমরা একই রুমে থাকতাম) একটি উক্তি দিয়ে শেষ করছি। তখনকার ফিজিক্স চেয়ারম্যান অধ্যাপক হারুন-উর রশীদকে উনি বলেছিলেন- ওকে সুইডেন পাঠিয়ে দিন। ও হচ্ছে আদর্শবাদী আর স্বপ্নবাজ। ওকে সেখানেই মানাবে।

সেই মেইলের শেষে উনি আমার একটি প্রশ্নের ইঙ্গিতপূর্ণ জবাব দিয়েছেন। প্রশ্নটা ছিলো : সিরাজ শিকদার কার বিশ্বাসঘাতকতার শিকার? উত্তরটা হুবহু তুলে দিলাম : As I was not with the party, I don’t know who he was. Before Mahbub left Dhaka in 1975, told me a name and said that I don’t know him. But there were three persons of the same name in the party. I have met three persons of the same name. The first letter is 17. You know 1+7=8, which is the site for FATE and DEATH (in Astrolgy). I would not disclose more and I don’t like to harm him.

সংখ্যাতত্ত্ব আমি কম বুঝি। নিউমারোলজীর ব্যাখ্যাটুকু বাদ দিলে সম্ভবত নামের অদ্যক্ষরটা তিনি বুঝিয়েছেন যা ইংরেজী বর্ণমালার ১৭তম-Q। এটা দিয়ে কামরুল হতে পারে, কাইয়ুম হতে পারে, কাজীও হতে পারে। তবে যেহেতু উনি পুরো নাম বলেননি তার ক্ষতি হবে এই ভয়ে, সেই অনুভূতিটুকু সম্মাণ করা যাক।

সিরাজ শিকদার সিরিজটা আমার নিজের কাছে বরাবরই অসম্পূর্ণ মনে হয়েছে। কারণ তার ধরা পড়ার ব্যাপারটা নিয়ে যথেষ্ট উপাত্ত আমার কাছে ছিলো না। তাই দু’লাইনেই সেরেছিলাম। ১৯৭৬ সালের সাপ্তাহিক বিচিত্রা-র জানুয়ারী মাসের সেই সংখ্যাটা অনেক খুঁজেছি, পাইনি। সেটায় বিস্তারিত ছিলো এ ব্যাপারে। তবে একেবারে মেলেনি তা নয়। ব্লগার লীনা দিলরূবা আমাকে ক্রাচের কর্নেল বইটি উপহার দিয়েছেন। আমার মেডিকেলেরই বড় ভাই শাহাদুজ্জামান অনেকটা ব্লগ ধাচেই লিখেছেন এটি এবং এর প্রতিটি অনুচ্ছেদই তথ্যভিত্তিক। সিরাজের মৃত্যু প্রসঙ্গে তিনি যা লিখেছেন তা তখনকার উপাত্তগুলোর ভিত্তিতেই। তার ভাষ্য :শহরে, গ্রামে নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারকে আগে থেকেই প্রবল চাপের মুখে রেখেছেন সিরাজ শিকদার। জরুরী অবস্থা ঘোষণা করবার পর তার তৎপরতা আরো বাড়িয়ে দেন সিরাজ শিকদার। ‘৭৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে হরতাল ডাকে সর্বহারা পার্টি। বোমা ফাটিয়ে, লিফলেট বিলি করে আতঙ্ক তৈরি করে তারা। দেশের নানা এলাকায় তাদের ডাকে হরতাল সফলও হয়। রক্ষীবাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা ঝাঁপিয়ে পড়ে তখন খুঁজছে সিরাজ শিকদারকে। সরকারের মোস্ট ওয়ান্টেড মানুষ তিনি। কিন্তু তার নাগাল পাওয়া দুষ্কর। কঠোর গোপনীয়তায়, নানা ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়ান। নিরাপত্তার জন্য এমনকি নিজের দলের ভেতর কারো আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

১৬ ডিসেম্বর হরতাল সফল হওয়ার পর আরও ব্যাপক কর্মসূচী নেবার পরিকল্পনা নিয়ে সিরাজ শিকদার তখন তার পার্টি নেতৃবৃন্দের সাথে লাগাতার মিটিং করছেন চট্টগ্রামে। একেক দিন থাকছেন একেক গোপন আস্তানায়। ১৯৭৫ সালের প্রথম দিন, ১ জানুয়ারি চট্টগ্রামে হালিশহরের কাছে এক গোপন শেল্টার থেকে একজন পার্টি কর্মীসহ সিরাজ শিকদার যাচ্ছিলেন আরেকটি শেল্টারে। বেবিট্যাক্সি নিয়েছেন একটি। সিরাজ শিকদার পড়েছেন একটি দামী ঘিয়া প্যান্ট এবং টেট্রনের সাদা ফুল শার্ট, চোখে সান গ্লাস, হাতে ব্রিফকেস। যেন তুখোড় ব্যবসায়ী একজন। বেবি ট্যাক্সিতে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে একজন অপরিচিত লোক এসে তার কাছে লিফট চায়, বলে তার স্ত্রী গুরুতর অসুস্থ্, ডাক্তার ডাকা প্রয়োজন, সে সামনেই নেমে যাবে। শিকদার বেশ কয়েকবার আপত্তি করলেও লোকটির অনুনয় বিনয়ের জন্য তাকে বেবিট্যাক্সিতে তুলে নেন। চট্টগ্রাম নিউমার্কেটের কাছে আসতেই অপরিচিত লোকটি হঠাৎ লাফ দিয়ে বেবিট্যাক্সি থেকে নেমে ড্রাইভারকে পিস্তল ধরে থামতে বলে। কাছেই সাদা পোশাকে বেশ কয়েকজন অপেক্ষমান পুলিশ স্টেনগান উঁচিয়ে ঘিরে ফেলে বেবিট্যাক্সি। স্বাধীন বাংলাদেশের দুর্ধর্ষ বিপ্লবী, যথেষ্ট সতর্কতা সত্ত্বেও তার দলের সদস্যেরই বিশ্বাসঘাতকতায় ধরা পড়ে যান পুলিশের হাতে।

সিরাজ শিকদারকে হাতকড়া পড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয় ডাবল মুরিং থানায়। সেদিন সন্ধ্যায় একটি বিশেষ ফকার বিমানে তাকে নিয়ে আসা হয় ঢাকা। তাকে রাখা হয় মালিবাগের স্পেশাল ব্রাঞ্চ অফিসে। সরকারের ত্রাস, বহুল আলোচিত, রহস্যময় এই মানুষটিকে এক নজর দেখবার জন্য সেনাবাহিনীর সদস্য, আমলাদের মধ্যে ভিড় জমে যায়।

৩ জানুয়ারি সারা দেশের মানুষ পত্রিকায় পড়ে, ‘বন্দি অবস্থায় পালানোর সময় পুলিশের হাতে নিহত হন পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি নামে পরিচিত একটি গুপ্ত চরমপন্থী দলের প্রধান সিরাজুল হক শিকদার ওরফে সিরাজ শিকদার’। ছাপানো হয় সিরাজ শিকদারের মৃতদেহের ছবি।

এ বিষয়ে নাঈম মোহাইমেন তার গেরিলাজ ইন দ্য মিস্ট -এ কিছুটা আলোকপাত করেছেন। রইসউদ্দিন আরিফের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি তুলে ধরেছেন সিরাজের মৃতদেহের ছবি দেখার পর পার্টি সদস্যদের প্রতিক্রিয়া। The necessity for a mythology around Sikder was intensified after his capture. Talking about the reaction to the newspaper reports announcing his death, Ariff remembers: .Looking at that photograph of a man with thick moustache and two sideburns, party workers grabbed the photo and ripped it into shreds, screaming that it was a fake. Their great leader Shiraj Sikder could never look like a ’thug’ like that. Perhaps in their imagination Shiraj Sikder was a rare angelic demi-god whose face would have a heavenly glow, the aura of a freshly flowered rosebud.

এই দেবতাসূলভ ঈশ্বরভাবের কিছু নমুনা আমি পেয়েছি অনেক বামমনোভাবী ব্লগারের প্রতিক্রিয়াসুলভ মন্তব্যে। একমাত্র সিরাজ শিকাদারের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামান্য অংশটুকু বাদে বাকি সিরিজটা তাদের কাছে চরিত্রহানীই মনে হয়েছে। না, এমন হতে পারে না। কখনোই না। নাঈম উদ্ধৃতি দিয়েছেন দুজন পার্টিকর্মী খোকন-তুষারের স্মৃতিকথার : A typical party-sympathetic account comes from Khokon and Tushar,24 who talk in hushed tones about the “brilliant young student of the engineering university”, and provide small personal details such as his eating habits (”Shiraj Sikder enjoyed eating biscuits while dipping them into thick mashuri daal “). Minute observations were especially necessary for constructing a visual of a mysterious leader, whose sightings were rare and limited to the inner circle. Even more important were stories of his martial prowess (”at that time there were very few people who could survive a bare-hand fight with Sikder”), his fight against capture (”as soon as he pulled out his revolver, Shiraj Sikder punched him with his left fist. Shiraj Sikder had another identity. He knew martial arts very well”) and his last words to Sheikh Mujib (”Don’t touch me, Mr President, remember you talk to the Shiraj Sikder!”).25 These accounts, while plausible, are riddled with the problem of invisible witnesses (nothing in Khokon-Tushar has footnotes) and conflicting accounts. To take just one example, Khokon-Tushar write that Sikder was flown by “special helicopter” to Dhaka, even though all other narratives talk about a commercial airline. Did a “helicopter” simply sound more dangerous and heroic?

24. S.M.H. Khokon and S.M. Tushar. Bangladesher Gopon Rajniti (Secret Politics of Bangladesh) (Nuzaim Prakashani, 1996)..

25. Whether imaginary or not, it is interesting that this penultimate confrontation is imagined to be in English. In a different context, Humayun Azad (Amra ki Ey Bangladesh Cheyechilam (Is This The Bangladesh We Wanted) (Agamee Prakashani, 2003, Dhaka) p. 61) talked about the power of English: “After Mujib took full dictatorial powers, there was a dramatic increase in use of English words in his parliament speeches and in front of officials. Perhaps this increase in English shows that he had drifted far away from his people”. Ahmod Sofa (”Bangla Bhasha: Rajnithir Aloke (Bengali Language in a Political Light)”. In Selected Essays of Ahmod Sofa (Student Ways, 1993) p. 37) hits a closer note while talking about attempts to introduce Bengali in government functions: “The Minister secretly cannot deny the power of that English language. After all, he is also a Bengali like us. Bengali cannot be used successfully to scold your employees”.

এই ভাবালুপতার দোষে দুষ্ট হয়েছে সিরাজের গ্রেফতার থেকে মৃত্যুকালীন ঘটনাবলীর বর্ণনাও। নাঈম লিখেছেন : Conflicting statements surround the execution of Sikder. Facts and fiction are hopelessly intertwined, and separating them would require a separate archaeological project. Each little piece of the legend gives rise to many associated curiosities. Various accounts talk about Sikder being transported blindfolded in a civilian plane from Chittagong to Dhaka (another book talks about a ’special’ helicopter),18 pilots who refused to fly because of violation of international aviation laws (yet none of them came forward in three decades), passengers who heard Sikder beg for water (an odd detail which sounds like a remix of the Karbala martyrdom scenario), a police officer who ran over and kicked him on the chest on the airport tarmac, savage beatings and torture in Dhaka (a valuable political prisoner killed without any information being extracted), and the secret meeting with Mujib where Sikder allegedly sealed his fate with his defiance. None of these stories have been verified, since every account is second- or third-hand, and eyewitnesses are never named.

What is uncontested is the fairly prosaic nature of Sikder’s death, shot in the back while ’trying to escape’. Whatever controversies may continue about those last 24 hours, the public perception was final: Mujib had personally ordered this very public, not-so-secret killing. This impression was solidified when Mujib gave his infamous parliamentary speech (often referred to as .Kothai aj shei Shiraj Sikder (Where today is that Shiraj Sikder?). which would haunt the Awami League in decades to come: .We forgave them all. [We] told them love your country. Accept the independence of the country. Stay in the country. But some did not change. They even now get money from abroad to conspire against the independence of Bangla. They think I don’t know anything (about them). One that kills people in the darkness of night, he thinks no one can catch him. Where today is that Shiraj Sikder?”19

18. S.M.H. Khokhon and S.M. Tushar, op. cit.

19. Bilayet Hossain. .Parentheses, Footnotes & History., newagebd.com/2005/feb/23/fb.html

অবশ্য এই বিষয়ে আমি আগেই লিখেছি। জাতীয় সংসদে শেখ মুজিবুর রহমানের উক্তিটাকে রং দিয়ে এর আগুপিছু না জেনে (এমনকি সময়কালও, অনেকে বলেন পরদিনই সংসদে বঙ্গবন্ধু দম্ভোক্তি করেছেন- কোথায় আজ সিরাজ শিকদার?) তাকে ভিলেন বানাতে উঠে পড়ে লেগেছেন। অবস্থানটা মানুন। শেখ মুজিব রাষ্ট্রপতি আর সিরাজ শিকদার তার চোখে একজন চরমপন্থী সন্ত্রাসী। মোটেও এখানে মুজিবকে শেরিফ অব নটিংহাম আর শিকদারকে রবিনহুড বানানোর জো নেই। এটা ইতিহাস, রূপকথা নয়। পুনরাবৃত্তি করছি এর আগে লেখা আলোচ্য অংশটুকুর। প্রচলিত গল্প হচ্ছে সিরাজ শিকদার মারা যাওয়ার পরদিন সংসদে দাড়িয়ে মুজিব সদম্ভে ঘোষণাটা দিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে সে বছর সংসদ অধিবেশন বসে ২৫ জানুয়ারি। সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী পাস করানোর পর তার দ্বিতীয় বিপ্লবের (বাকশাল) বিশ্লেষণ করার এক পর্যায়ে (বক্তৃতার মাঝামাঝি) মুজিব বলেন : স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু হওয়ার পর যারা এর বিরোধীতা করেছে, যারা শত্রুর দালালী করেছে, কোনো দেশেই তাদের ক্ষমা করা হয় নাই। কিন্তু আমরা করেছি। আমরা তাদের ক্ষমা করে দিয়ে বলেছি দেশকে ভালোবাসো। দেশের স্বাধীনতা মেনে নাও। দেশের কাজ করো। কিন্তু তারপরও এদের অনেকে শোধরায়নি। এরা এমনকি বাংলার স্বাধীনতার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করতে বিদেশ থেকে টাকা নিচ্ছে। ওরা ভেবেছে আমি ওদের কথা জানি না! একজন রাতের আঁধারে মানুষ মেরে যাচ্ছে আর ভাবছে তাকে কেউ ধরতে পারবে না। কোথায় আজ সিরাজ শিকদার? তাকে যখন ধরা গেছে, তখন তার সহযোগীরাও ধরা পড়বে। আপনারা কি ভেবেছেন ঘুষখোর কর্মকর্তাদের আমরা ধরবো না? যারা বিদেশীদের থেকে টাকা নেয় তাদের আমরা ধরবো না? মজুতদার, কালোবাজারী আর চোরাকারবারীদের ধরবো না? অবশ্যই ধরবো। এটা শুধু সময়ের ব্যাপার। তারা কিছুই হজম করতে পারবে না। ইনশাল্লাহ, অপরাধী একদিন ধরা পড়বেই…’।

সিরাজ শিকদার প্রসঙ্গে কমরেড সূর্য্য রোকনের প্রতিক্রিয়াঃ 

সিরাজ শিকদারকে নিয়ে সম্প্রতি একটি সিরিজ লিখেছিলাম। আর এটি লেখার পিছনে একটি বড় প্রণোদনা ছিলো সুইডেন প্রবাসী কমরেড সূর্য্য রোকনের একটি লেখা এবং তার স্মৃতিকথা। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে তার সঙ্গে মেইলে যোগাযোগ করেছিলাম। ব্যস্ততার মাঝেও তিনি চেষ্টা করেছেন আমার সব আগ্রহ মেটাতে। পোস্ট প্রসঙ্গে তার অনুমতি নিয়ে আমাকে ফরওয়ার্ড করা একটি মেইলের কিছু অংশ হুবহু এবং আমাকে লেখা একটি মেইলের আংশিক বাংলা করে তুলে দিলাম। আমার ধারণা এতে পাঠকরা বাড়তি কিছু তথ্য পাবেন।

এক পাঠিকাকে পাঠানো মেইলের কিয়দাংশ যা আমাকে ফরোয়ার্ড করেছিলেনঃ

Bangladesh: The Sun is Red

Part 1: A Dream for Freedom

Part 2: A Visit by Liberty

Part 1 was written in Uppsala in the University Central Computer in the year 1984 and saves on magnetic tapes which is now useless. But a printout is preserved.

Part 2 has not been written yet. I was busy with other works beside a few other publications (search Google: babulanam).

I am a Swedish citizen since 1988 and has little contact with people in politics in Bangladesh except a few for example my class-mate Dr. Abdul Moyen Khan and others. As a foreigner I have no right to interfare in the internal affairs of Bangaldesh exept watch as an observer. You know I felt as if I was an undesirable person and unfit for that country of my birth which loved so much as Jibananda Das and I like to listen Tagore’s song everyday.

So I know little about Banladesh as Rip Van Winkle knew after twenty years’ long sleep. You may know more from the blog of Omi Rahman Pial omipial@gmail.com.

Siraj Sikder’s first wife was divorced and he gave her in marriage to a party comrade of Pabna (Bera). His second wife Jahan Ara was sent to her brother, a contacter in Comilla.

Mahbubul Alam was my classmate in Notre Dame College and Dhaka Univerity (as Moyen Khan who stood forst) who stood 3rd in merit in East Pakistan in 1962. Mahbubul Alam @ Bulbul came from Brown Compound in Barsal and was the 3rd son of his father who was a “Peshkar” in the court. Mahbub’s eldest brother was a pilot and the secon brother an Enginneer who came to Neterlands in the year 1975 for a year. Mahbub was in Netherlands for year. In 1982 my classfriend Achintya Sen, Assistant Editor of Weekly Holiday tod me that he had heard that Mahbub had returned to Bangladesh. I 1985 my mother wrote me that Mahbub’s father visited our family and wept telling that Mahbub was blind and insane who delivered lectures all the day. Perhaps, he was one of the ill-fated captured 12 “Sarboharas” whose eyes had been taken out by the order local chairman of Kalkini in Faridpur district before they were handed over to the police (that I read in Bengali newspaper in Uppsala).

Here I add my letter written to Pial:

আমাকে পাঠানো মেইলের আংশিক বঙ্গানুবাদ :

আমি ঠিক জানি না আপনার এই খোজখবরের উদ্দেশ্য, আর কি লাভ এতে! যাহোক, যখন সম্ভব হবে তখন দ্বিতীয় পর্বটা লিখবো। ১৯৬৫ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত আমি প্রচুর লেখালেখি করেছি। দৈনিক সংবাদে অনেক লেখা ছাপা হয়েছে। আমার কাব্যগ্রন্থ ‘দিকে দিকে বিদ্রোহের মুখ কথা বলছে’ প্রকাশ করার ইচ্ছে ছিলো। কিন্তু সম্ভব হয়নি। একটা প্রেসে ‘সৌরঝড়’ কম্পোজ করা হয়েছিলো, বাংলাবাজার থেকে কাগজ কিনে নরসিংদী গিয়েছিলাম, কিন্তু মালিক হিন্দু ভদ্রলোক ভয় পেয়ে গেলেন। তাই শেষ পর্যন্ত ‘মৃতদেহ ও শ্মশানের ঘাট’ ছাপানো হলো, আর এর বিপননের দায়িত্ব ছিলো মুক্তধারা প্রকাশনীর। কিন্তু সময়টা ছিল রদবদলের। রুশপন্থী এক পাকিস্তানের রূপরেখা (pro-Russian line of one Pakistan) আর ন্যাপের প্রেসিডেন্ট ও সেক্রেটারি হিসেবে একইসঙ্গে ওয়ালী খান ও ওসমানীকে মেনে নিতে আমার আপত্তি ছিলো। আমাদের ফেরাতে মতিয়া চৌধুরী প্রায় কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে গেয়েছিলেন- মিলকে চলো ভাইয়া, মিলকে চলো।

আমি পদার্থবিদ্যার ছাত্র এবং রাজনীতি সম্পর্কে খুব কমই জানতাম। রুশপন্থী আর চীনপন্থীদের তফাত খুব একটা ধরতে পারতাম না। আমার শেষ কবিতাটা নকশাল আন্দোলনের ওপর লেখা যেখানে আমি একইভাবে গোটা বাংলাদেশের জনগণকে স্বাধীনতার জন্য জেগে ওঠার আহবান জানিয়েছিলাম। আজমীই (সাইফুল্লাহ আজমী, সিরাজ শিকদারের সেকন্ড ইন কমান্ড, মুজিব বাহিনীর হাতে নিহত) আমাকে বোঝালো যে কবিতাটা শুনতে বেশ লাগলেও এর বক্তব্যটা সঠিক না। তার ভঙ্গীটা ছিলো অন্যরকম, কমরেড ফরহাদের মতো না যিনি আমাদের কথা কথায় বলতেন- বেশী বোঝার চেষ্টা করো না। আজমী বললো যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা হচ্ছে জাতীয় সংগ্রাম আর অন্যদিকে নকশাল আন্দোলন এক ধরণের অন্ধক্রীয়াবাদ (Putscmist way)। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ন্যায়সঙ্গত হবে যদি আমরা প্রমাণ করতে পারি যে পূর্ব বাংলা আসলে পাকিস্তানের উপনিবেশ যা রেডগার্ডদের (EBRCM) তত্ব থেকে আলাদা।

জহুরুল ইসলাম পূর্ব বাংলা শ্রমিক আন্দোলনের (EBWM) পৃষ্টপোষক ছিলেন কারণ তিনি পূর্ব বাংলাকে পাকিস্তানের উপনিবেশ মনে করতেন। এখানে শত্রু-মিত্রের ধারণাটা গরীব বা ধনী দিয়ে বিচার্য্য ছিলো না। পাকিস্তানের সমর্থক মানেই শত্রু এবং পূর্ব বাংলার সমর্থক মানেই ছিলো মিত্র।

আমি সিরাজ শিকদারের সঙ্গে আন্দোলন করেছি সত্যি, কিন্তু আমি তাকে পুজো করিনি কখনও। আমি এখনও মনে করি সাইফউদ্দিন মানিকের পক্ষে সম্ভব ছিলো বাংলাদেশের সেরা নেতা হওয়া। সিরাজ শিকদার একজন পলপট হতেন আর শেখ মুজিব সাদ্দাম হোসেনের মতো। দুজনেই তুতো বোনকে বিয়ে করেছেন, সিআইএর সেবাদাস ছিলেন এবং উদের মতো তারও ছিলো শেখ কামাল। যাহোক, সিআইএ ফিদেল ক্যাস্ত্রোকে শ’খানেকবার মিস করেছে, সাদ্দামকে বার দশেক কিন্তু এক ঢিলেই মুজিবকে উৎখাত করেছে।

দ্বিতীয় পর্বটা আমি লিখতে পারি, কিন্তু কার জন্য, কেনো? সিরাজ শিকদারের সঙ্গে আমার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিলো ১৯৬৮ সালের অক্টোবর থেকে ১৯৬৯ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। তখন পূর্ব বাংলা শ্রমিক আন্দোলনের ঘোষণাপত্রটা আমি লিখেছিলাম, আর সিরাজ শিকদার তেজগাও টেকনিকাল কলজেরে প্রভাষক। আমার ধারণা এই সময়টাই তার পারিবারিক জীবনের সবচেয়ে সুখী ও শান্তির সময়। এ সময় এক সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা থাকায় আমি ঢাকা ছেড়ে চলে যাই। আয়রন-জয়কুল হাইস্কুলের বিএসসি শিক্ষক হিসেবে যোগ দিই এবং দু’মাসের মধ্যে ছাত্র ও কৃষকদের সংগঠিত করি।

কিন্তু এরপরই আমাদের বিচ্ছেদ ঘটলো। ১৯৬৯ সালের ১ মে সেলিম শাহনেওয়াজের (বানারিপাড়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা, দলীয় অন্তর্কোন্দলে নিহত) বাসায় আমাদের বার্ষিক সভায় সিরাজ শিকদার আমার বিরুদ্ধে ১৯টি অভিযোগ তুললেন। আমার দোষ ছিলো ধনী-গরীব, পাকিস্তানপন্থী-পাকিস্তানবিরোধী সবার মধ্যে আমার জনপ্রিয়তা। আমি হতভম্ব হয়ে কেঁদে দিয়েছিলাম। আমি বুঝে উঠতে পারছিলাম না কোথায়, কার কাছে আমার জনপ্রিয়তার এই উদ্ভট তথ্য তিনি পেলেন! আত্মপক্ষ সমর্থন করিনি, তবে মনে মনে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি যে আর নয়। বরং বলেছি যে ছাত্র ইউনিয়নের (মতিয়া গ্রুপ) সাধারণ সম্পাদক আমি, ওরা বলছে আমাকে পদত্যাগ করতে আর আমি ওদের উল্টো বলেছি আমাকে বরখাস্ত করতে। তবে আমি কমরেড ফরহাদের নেতৃত্বাধীন কম্যুনিস্ট পার্টি ত্যাগ করেছিলাম আর পূর্ব বাংলা শ্রমিক আন্দোলনের সদস্যপদ প্রার্থী ছিলাম যা সর্বোচ্চ একবছরের জন্য নবায়ন করতে হয় অসদস্যদের জন্য।

ইয়াহিয়ার ক্ষমতা দখলের পর সেই সামরিক অভিযান আর হয়নি। আমি মে মাসের শেষ দিকে ঢাকা ফিরলাম। মাহবুবের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস শুরু করলাম। ১৭ জুনের আগেই আমাদের বৃত্তির টাকা তুলে ফেললাম নয়তো তা বাতিল হয়ে যেত। সিরাজ শিকদার সাইক্লোস্টাইল মেশিন কেনার জন্য আমাদের কাছে চাঁদা দাবি করলে তাকে সঙ্গে সঙ্গে ২ হাজার রূপি দিয়ে দিই আমরা। বরিশালের সেই স্কুলে আমি ফিরে গেলাম এবং ঝালকাঠি কলেজের মুজিবর রহমান নামে একজন সার্বক্ষণিক কর্মীর জন্য মাসে ১০০ রূপি দিতাম। সেপ্টেম্বরে পূর্ব বাংলা শ্রমিক আন্দোলন আমাকে সদস্যপদ দেয়ার প্রস্তাব দিলো। কিন্তু ততদিনে আমি চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সংবিধান পড়ে ফেলেছি, তাই সদস্যপদ প্রত্যাখান করলাম। বরং বললাম যে আমি পূর্ব বাংলা জাতীয় সংগ্রাম পরিষদের (East Bengal National Liberation Front) জন্য শুধু কাজ করবো। ব্রিগেডিয়ার মোয়াজ্জেমের পূর্ব বাংলা জাতীয়তাবাদী দলের ব্যাপারে আমার আগ্রহ ছিলো। কিন্তু একটা ঘটনায় মনটা বিগড়ে গেলো। ১৯৬৯ সালের জুলাইয়ে মানুষের চাঁদে অবতরণের উপলক্ষ্যটা উদযাপন করতে গিয়ে দেখি তুমুল প্রতিবাদের ঝড়। মানুষকে নাকি ইসলাম থেকে দূরে সরানোর চক্রান্ত হচ্ছে, কারণ চাঁদের অবস্থান চতুর্থ আসমানে, কোনো সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্ভব না সেখানে পৌছানো।

১৯৬৯ সালের ডিসেম্বরে ঢাকা ফিরলাম। ঢাকায় সিরাজ শিকদারের সঙ্গে দেখা হলো, তখন উনি সবুজবাগে জাহান আরার সঙ্গে একসঙ্গে থাকেন। ১৯৭০ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির দিকে তার সঙ্গে আমার শেষ দেখা। জাহান আরাকে নিয়ে আমাদের মালিবাগের বাসায় এসেছিলেন, জাতীয় যুদ্ধের জন্য আমার সব সংগ্রহ নিয়ে গেলেন। সবার উপরে আমি লেনিনের বাণী লিখেছিলাম যে “The best oppornity to Bourgeoisie dedelopment is achieved in National State. When Comrade Bukharin argued in the 3rd International Conference “Where there is no working class, for whom we would lead the National struggle? For the Bourgeosie?”

Lenin said, “Where there is only slaves and slave-owners, to support a National Struggle is not only a duty of a communist, he must!”

সিরাজ শিকদারের সঙ্গে সেই আমার শেষ দেখা।

আরো পড়ুন